
প্রশ্ন
(১) ঈদের নামাযের খুৎবার পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত শরী‘আত সম্মত কি-না? (২) কোন ইমাম সাহেব যদি ঈদের নামাযের পর মুনাজাত করেন এবং খুৎবার পর না করেন, এতে কিছু সাধারণ মুসল্লী আপত্তি করেন এই বলে যে, “এই নতুন নিয়মের স্থলে আমাদের পূর্বেই নিয়ম অর্থাৎ খুৎবার পর মুনাজাতই উত্তম”। অর্থাৎ তারা খুৎবার পর মুনাজাতকে জরুরী মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে খুৎবার পর মুনাজাত কি জায়িয? (৩) কিছু লোক খুৎবার পূর্বে মুনাজাত এ কারণে পছন্দ করেন না যে, এতে ঈদের মাঠ ইত্যাদির জন্য টাকা তোলার অসুবিধা হয়। তাদের এ দাবী গ্রহণযোগ্য কি-না? যদি খুৎবার পূর্বে মুনাজাত করা হয় তবে টাকা তোলার শরয়ী পন্থা কি? (৪) কোন ইমাম যদি একথা বলেন যে, আমার মুসল্লীগণ খুৎবার পর মুনাজাত জরুরী মনে করে না, তাই আমি মুনাজাত করি। তাহলে তার সত্যতা যাচাইয়ের উপায় কি?
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
(১-২) ঈদের নামাযের পর বা ঈদের খুৎবার পর দু‘আ করার কোন স্পষ্ট রেওয়ায়েত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের থেকে পাওয়া যায় না। তবে নামাযের পর দু’আ করার প্রতি হাদীসে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর ঈদের নামাযও যেহেতু অন্যান্য নামাযের মত নামায; সুতরাং ঐ হাদীসের উপর ভিত্তি করে ঈদের নামাযের পরেও দু‘আ করা মুস্তাহাব। তবে দু‘আ করাকে জরুরী মনে করা ঠিক নয়। আর খুৎবার পরও সুন্নাত বা মুস্তাহাব মনে না করে দু‘আ করা যেতে পারে। (৩) নামায শুরু হওয়ার পর থেকে খুৎবা শেষ হওয়া পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে টাকা তোলা যাবে না। বরং যদি টাকা তুলতে হয় বয়ানের শেষে নামাযের পূর্বে অথবা খুৎবার শেষে তুলতে পারে (৪) ইমাম বা খতীব সাহেব যদি এসব মাসআলা বার বার বুঝিয়ে বলেন তাহলে মুসল্লীদের কি ঠেকা পড়েছে যে তারা একটা মুবাহ বা জায়িযকে জরুরী মনে করবে। যতস্থানে মুবাহকে জরুরী মনে করা হয়ে থাকে বুঝানোর অভাবে হয়ে থাকে।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- মিশকাত শরীফ, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৮৮
- বুখারী শরীফ, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩৬
- দারুল উলূম, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২১৩
- আহসানুল ফাতাওয়া, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১১৫
- তহাবী শরীফ, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৫১
- ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩০৮