
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
আপনার প্রশ্নটি অস্পষ্ট। এখানে উদ্দেশ্য হতে পারে দু’টি। যথা ১. কত প্রকার ব্যক্তিকে যাকাত দেয়া যাবে? ২. কোন কোন আত্মীয়কে যাকাত দেয়া যাবে আর কাকে দেয়া যাবে না? যাদের যাকাত দেওয়া যাবেঃ إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ • যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা-৬০) মোট ৮ ধরণের ব্যক্তিকে যাকাত দেয়ার কথা কুরআনে বর্ণিত। যথা- ১. গরীব। যার সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়। ২. মিসকিন। যার একদমই কোন সম্পদ নেই। ৩. ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায়কারী আমেল। এটা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা নিযুক্ত হতে হবে। নিজে নিজে মনে করে নিলে হবে না। (জাওয়াহিরুল ফিক্বহ-৬/৬৯) ৪. নব মুসলিমদের ইসলামের প্রতি মোহাব্বত বাড়ানোর জন্য উৎসাহমূলক যাকাত প্রদান। এ বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে কোন ধনী নওমুসলিমকে যাকাত প্রদান জায়েজ নয়। (হিদায়া-১/১৮৪; মাআরিফুল কুরআন-৪/১৭১; তাফসীরে মাযহারী-৪/২৩৫) ৫. দাসমুক্তির জন্য। যেহেতু বর্তমানে দাসপ্রথা নেই। তাই এ খাতটি বাকি নেই। ৬. ঋণগ্রস্তের জন্য। ৭. ফী সাবিলিল্লাহ। তথা আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এখন প্রশ্ন হল আল্লাহর রাস্তায় কারা আছে? ফুক্বাহায়ে কেরাম বলেন এতে রয়েছেন- জিহাদরত মুজাহিদরা। তাদের জিহাদের অস্ত্র ও পাথেয় ক্রয় করার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহণ করবে। হজ্বের সফরে থাকা দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। ইলমে দ্বীন অর্জনকারী দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। (আদ দুররুল মুখতার-৩৪৩; হিদায়া-১/১৮৫; রূহুল মাআনী-৬/৩১৩) ৮. সফররত ব্যক্তিকে। যার টাকা পয়সা আছে বাড়িতে। কোন সফর অবস্থায় অসহায়। তাকে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ। উপরোক্ত ক্যাটাগরিতে যাকাত আদায় করলেই কেবল যাকাত আদায় হবে। অন্য কাউকে যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। ফুক্বাহায়ে কেরাম যাকাত আদায়ের জন্য একটি শর্তারোপ করেছেন এই যে, যাকাতের টাকার মালিক বানিয়ে দিতে হবে দানকৃত ব্যক্তিকে। যদি মালিক বানিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন কাউকে কোন বস্তু ভোগ দখলের অধিকার দিয়ে নিয়ত করল যাকাতের, তাহলে এর দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। সেই হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মসজিদে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ নয়, যদিও তাতে গরীব মানুষ থাকে, নামায পড়ে, পড়াশোনা করে। তবে প্রতিষ্ঠানের গরীবদের, মাদরাসা গরীব ছাত্রদের, মসজিদের গরীব মুসল্লিদের যাকাত দিলে তাতে মালিক বানিয়ে দেয়ার বিষয়টি থাকায় তা জায়েজ হবে। (ইনায়া আলা ফাতহিল কাদীর-২/২৬৭-২৬৮; আল হিদায়া-১/২০৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/২৯৯) যেসকল আত্মীয়দের যাকাত দেওয়া যাবেঃ যার উপর যাকাত ওয়াজিব তিনি তার উসুল এবং ফুরু তার উপরের আত্মীয় যথা পিতা-দাদা, পর দাদা প্রমুখ, দাদি-দাদির দাদি প্রমুখ। মা-নানী প্রমুখ। সেই সাথে ফুরু তথা ছেলে-মেয়ে, নাতি প্রমুখ। এবং স্ত্রীকে যাকাত দেয়া যাবে না। এছাড়া বাকি আত্মীয় স্বজনকে যাকাত দেয়া জায়েজ আছে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১৪/১৮৮; রদ্দুল মুহতার, ২/৩৪৬; বাহরুর রায়েক, ২/২৪৪) যাকাত ও ফিতরা হকদার একই হয়ে থাকে। সেই হিসেবে দাদা ও নানী ও তাদের উপরের কাউকে ফিতরা দেয়া যাবে না। কিন্তু অন্যান্য আত্মীয়দের দেয়া যাবে। যেমন মামাকে, খালাকে এবং তাদের সন্তানাদীকে। (রদ্দুল মুহতার, ২/৩৪৬)
- والله اعلم باالصواب -
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কারা যাকাত পাবে না?
- পিস টিভিতে যাকাত দেয়া যাবে কি
- দান সদকা কাদের দেয়া যাবে
- সৎ মাকে যাকাত দেওয়া যাবে কি না?
- যাকাত ও সদকায়ে ফিতিরের টাকা আত্মীয়দের বা মসজিদ নির্মাণে প্রদান করার বিধান
- মা, বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রীদের মাঝে সম্পদ বন্টন পদ্ধতি কি হবে
- কওমী মাদরাসায় যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হয় না
- নামাযকে অপ্রয়োজনীয় সাব্যস্তকারী এবং বিলাসী জীপন যাপনকারীকে যাকাত প্রদান