
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
আমাদের দেশের তিলাওয়াতের মধ্যে সাধারণতঃ যেসব ভুল-ভ্রান্তি লক্ষ্য করা যায়, তা নিম্নে প্রদত্ত হল। তবে এ তালিকা দ্বারা কারো কিরা‘আত সহীহ্ হয়ে যাবে না। বরং সহীহ্ হওয়ার জন্য কোন অভিজ্ঞ ক্বারী সাহেবের নিকট মশক্ করা জরুরী। কিরা’আতুল কুরআনের প্রচলিত ভুল। (১) হরফের মধ্যে- (ক)ز “য” এর মত নরম হবে, “ঝ” এর মত শক্ত নয়। (খ)ض অনেকটা “জ” এর মত হবে, “দ” এর মত নয়। (গ) و উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোল হবে। এই হরফে মদ্দের সময় ও শুরু থেকে ঠোট গোল হবে। (২) সিফাতের মধ্যে- (ক) ض–এর استطا لت -এর প্রতি এর খেয়াল করা হয় না। (খ) ز س ص - এর সিফাত আদায় হয় না। (গ) حروف مستعليه -এর মধ্যে আকার উচ্চারণ করে যা ভুল। অবশ্য যের অবস্থায় إستعللاء কম হওয়া জরূরী। (৩) হরকতের মধ্যে- (ক) َ যবর –এ আকার উচ্চারণ হবে। যফলা (¨)-এর মত, টেড়া উচ্চারণ ভুল। (খ) ِ যেরকে দাবিয়ে উচ্চারণ করতে হয়, ে -এর উচ্চারণ ভুল (গ) ُপেশ উভয় ঠোট মিলার কাছাকাছি হবে, ো উচ্চারণ ভুল। (৪) (ক) হরফে লীন- মারূফ পড়তে হয় كيف(কাইফা) কে কায়ফা, لو (লাউ) কে লাও পড়া ভুল। (খ) নরম করে পড়তে হয়, ধাক্কা দেয়া ভুল। (গ) তাড়াতাড়ি পড়তে হয়, মদ করা ভুল। (৫) মদ্দের ব্যাপারে- (ক) এক আলিফকে দুই হরকত পরিমাণ টান হবে, বেশী টানা ভুল। (খ) তিন বা চার আলিফ মদ্দের আওয়াজে তরঙ্গ সৃষ্টি করবে না আওয়াজ নাকে নিবে না। (৬) গুন্নাহ ও ইখফা- উভয়টার পরিমাণ এক আলিফ। ইখফা অনেকটা বাংলা অনুস্বর (ং) -এর মত এবং গুন্নাহ "ন্ন” এর মত। অনেকে ব্যতিক্রম করে থাকে, যা ভুল। (৭) ক্বলকলাহ- সামান্য ধাক্কা দিয়ে পড়তে হয়, বেশী ধাক্কা দেয়া ভুল। অবশ্য এসব অক্ষরে তাশদীদ থাকলে ওয়াকফের সময় জোরে ধাক্কা দেয়া হয়, যাতে করে অক্ষরটি দুবার উচ্চারিত হয়। যেমন- {ابي لهب و وتب} (৮) ওয়াকফ এর অবস্থায়- (ক)ر পরিষ্কার শুনা যাবে, অধিকাংশেরই ر শুনা যায় না। (খ) তেমনিভাবে অনেকেরই ه সাফ হয় না বরং নরম হামাযার মত হয়। আবার কেউ কেউ বেশী ধাক্কা দেয়, তাও ভুল। (গ) ذ এর উপর ওয়াকফ করার সময় অনেকে ه এর মত আওয়াজ বের করে, যা ভুল। (ঘ) غদাবায়ে উচ্চারণ করতে হয় কিন্তু বেশী দাবানো ভুল। (ঙ) তাশদীদ যুক্ত ر কে ওয়াকফের সময় অনেকে একটি উচ্চারণ করে, যা ভুল, বরং ر কে মাখরাজের মধ্যে দেরী করে উচ্চারণ করবে, যাতে উভয় ر উচ্চারিত হতে পারে। উল্লেখ্য ر পুর ও বারীকের মধ্যে জরুরী অনেক কায়িদা আছে। (হারদুই এর কায়িদা দ্রষ্টব্য) (চ) ى মুশাদ্দাদ উচ্চারণে অনেকে ”জ” এর মত আওয়াজ করে যা ভুল। (৯) লাহনে জলী- অনেকে ء কে ى এবং ى কে ء উচ্চারন করে যা লাহনে জলী যেমন- من ثلثي الليل- شانئك هو الابتر (১০) হরূফে মুকত্বাআত- এর মধ্যে অনেকে তাজবীদের ফা, গুন্নাহ, ক্বলকলাহ, ইত্যাদি কায়িদা জারী করে না, যেমন-كهيعص তেমনিভাবে অনেকে আস্তে কিরাআত পড়ার সময় তাজবীদের কায়িদা জারী করে না যা মারাত্মক ভুল।
- والله اعلم باالصواب -
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- আযানের সময় তিলাওয়াত
- নামাযে কুরআন তিলাওয়াতে আজেবাজে চিন্তা আসলে করণীয়
- হায়েয অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতের হুকুম
- নফল নামাযে উচ্চঃস্বরে কুরআন তিলাওয়াত
- তিলাওয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম-এর নাম এলে দুরুদ পড়া
- কবরের নিকট কুরআন মজিদ তেলোয়াত
- একাধিক তিলাওয়াতে সিজদাহ বিলম্বে একসাথে আদায় করা
- বাংলা কুরআন শরীফ তিলাওয়াত সম্পর্কে