
ছেলের স্ত্রীকে স্পর্শ করার দ্বারা কি স্ত্রীটি ছেলের জন্য হারাম হয়ে যায়
আহলে হ্বক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস•বিবাহ-তালাক•
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
পিতা মেয়েটিকে স্পর্শ করার সময় নিম্ন বর্ণিত শর্ত যদি পাওয়া যায়, তাহলে উক্ত মেয়ে সে পিতার সন্তানের জন্য হারাম হয়ে যাবে। তথা বিবাহ হয়ে থাকলে ভেঙ্গে যাবে। আর না হয়ে থাকলে কোনদিন উক্ত মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে না। যদি এর মাঝের একটি শর্তও ফউত হয়ে যায়, তাহলে এ নিষিদ্ধতা প্রয়োগ হবে না। শর্তগুলো নিম্নরূপ- ১. সরাসরি খালি গায়ে বা এমন কাপড়ের উপর দিয়ে মেয়েকে স্পর্শ করে, যা এতটাই পাতলা যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভব হয়। যদি এমন মোটা কাপড় পরিধান করে থাকে যে, শরীরের উষ্ণতা অনুভূত না হয়, তাহলে নিষিদ্ধতা সাব্যস্ত হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী, ৩/১০৭) ২. স্পর্শ করলে পুরুষ মহিলা যেকোন একজনের উত্তেজনা অনুভুত হওয়া। পুরুষের উত্তেজনা অনুভূত হওয়ার লক্ষণ হল গোপনাঙ্গ দাঁড়িয়ে যাওয়া, আর পূর্ব থেকে দাঁড়িয়ে থাকলে স্পর্শ করার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া। আর মহিলার উত্তেজনা হল মানসিকভাবে উত্তেজিত হয়ে যাওয়া। (ফাতাওয়ায়ে শামী, ৪/১০৭) ৩. স্পর্শ করার সময় উত্তেজিত হতে হবে। যদি স্পর্শ করার সময় কেউ উত্তেজিত না হয়, তাহলেও নিষিদ্ধতা প্রমাণিত হবে না। সেই সাথে স্পর্শ করার শেষে, হাত ছেড়ে দেওয়ার পর যদি উত্তেজনা অনুভূত হয় তাহলেও নিষিদ্ধতার সাব্যস্ত হবে না। (রদ্দুল মুহ্তার, ৪/১০৮) ৪. স্পর্শ করার পর উদ্ভূত উত্তেজনা স্থীর হওয়ার পূর্বেই বীর্যপাত না হতে হবে। যদি উত্তেজনা হওয়ার সাথে সাথেই বীর্যপাত হয়ে যায়, তাহলেও নিষিদ্ধতা সাব্যস্ত হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামী, ৪/১০৯) ৫. মহিলার বয়স ৯ বছর থেকে কম না হতে হবে। আর পুরুষের বয়স ১২ বছর থেকে কম না হতে হবে। (হুরমতে মুসাহারাত-১৯) ৬. যদি স্পর্শকারী মহিলা হয়, আর উত্তেজনা হওয়ার দাবি করে, আর স্বামীর এ ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয় যে, স্ত্রী সত্য বলছে, বা স্পর্শকারী পুরুষ হয় ও উত্তেজনার দাবি করে, তাহলেও তার সংবাদের উপর স্বামীর প্রবল ধারণা হয় যে, লোকটি সত্য বলছে, তাহলে নিষিদ্ধতা প্রমাণিত হবে নতুবা নয়। কেননা স্ত্রী এ দাবি করার মাধ্যমে স্বামী থেকে বাঁচতে চাচ্ছে, তাই স্বামীর সত্যায়ন জরুরী, তাছাড়া যদি দুই জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় যে, স্পর্শ করার সময় উত্তেজনা ছিল তাহলে স্বামীর সত্যায়নের কোন প্রয়োজন নেই। (ইমদাদুল ফাতওয়া-২/৩২০; হুরমতে মুসাহারাত-১৯) উল্লেখিত ৬টি শর্ত পাওয়া গেলে মেয়েটিকে বিয়ে করা ছেলেটির জন্য হারাম হয়ে যাবে। আর যদি কোন একটি শর্তও ফওত হয়ে যায়, তাহলে মেয়েটিকে বিয়ে করা ছেলেটির জন্য হারাম সাব্যস্ত হবে না। যদি কোন সাক্ষ্য না থাকে কিন্তু ছেলেটির এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত ধারণা হয় যে, এমন ঘটনা ঘটেছে যাতে হারাম হওয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে ছেলের জন্য তা অস্বিকার করা জায়েজ নয়। (আল হিলাতুন নাজেযা লিল হালিলাতিল আজেযা, ফাতওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ-৩/১১৮, ৪/১১৮) আর যদি মেয়ের সুনিশ্চিত বিশ্বাস হয় যে, এমন ঘটনাই ঘটেছে, যার দরূন ছেলেটি তার জন্য হারাম হয়ে গেছে, তাহলে মেয়েটি আল্লাহকে ভয় করে ছেলেটি থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখবে। কখনোই বিয়ে করবে না। (হিলাতুন নাজেযা লিল হালিলাতিল আজেযা, ইমদাদুল ফাতওয়া-২/৩২১)
- والله اعلم باالصواب -
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- মা, বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রীদের মাঝে সম্পদ বন্টন পদ্ধতি কি হবে
- মৃত ব্যক্তির পেনশন ও সমুদয় সম্পদ স্ত্রী সন্তান ও ভাইদের মাঝে বন্টন করা প্রসঙ্গে
- এক স্ত্রী দুই ছেলে একজন বিবাহিত মেয়ের মাঝে মিরাস কিভাবে বন্টিত হবে
- স্বামী স্ত্রীকে ও স্ত্রী স্বামীকে কাফন-দাফন দেয়া
- মিরাস সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি মাসআলা এবং বন্টনের মূলনীতি প্রসঙ্গে
- স্ত্রীর তালাক নেওয়ার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে তালাক দেওয়া
- "চিল্লাবানা, চিল্লাইলে আর বউ থাকবা না" বলার পরও স্ত্রী চিৎকার-চেচামেচি করলে তালাক হবে কি
- স্বামীর সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারে কাজী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিয়েছে বলে লেখে দেয় তবে কি বিধান