
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
আমাদের যে কোন কাজই আল্লাহ তা‘আলার হুকুম ও রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর তরীকা অনুযায়ী আদায় করতে হবে। এর দ্বারাই সাওয়াবের আশা করা যায়। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর তরীকা বহির্ভূত সকল কাজই পরিত্যাজ্য ও গোনাহের কাজ। বর্তমানে মানুষ মৃত্যুর পরও গোনাহ থেকে নিস্তার পায় না। মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনরা যে ত্রিশা ও চল্লিশার খাবারের আয়োজন করে রুসম পালন করে শরী‘আতের দৃষ্টিতে এসব কাজ বিদ‘আত ও কুসংস্কার হিসেবে বিবেচিত। এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির রূহে সামান্য পরিমাণও সাওয়াব পৌঁছে না। ফাতাওয়া শামীতে উল্লেখ রয়েছে-এর ধরনের প্রায় সকল কাজই অহংকার ও লৌকিকতার মনোভাব নিয়ে করা হয়। আর তখন এরূপ মনোভাব না থাকলেও পরবর্তীতে এ মনোভাব এসে যায়। মৃতের পরিবার ধনী হলে অধিকাংশ ধনীদেরকেই এতে দাওয়াত দেয়া হয়, আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্যে হয় না। এজন্য উত্তম হল, কোন দিন-তারিখের দিকে লক্ষ্য না রেখে গোপনীয়তা রক্ষা করে যে কোন দিন ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে গরীব ও ইয়াতীমদেরকে আহার করানো, লিল্লাহ বোর্ডিং-এ গরীব ছাত্রদের জন্য দান করায় (এতে সাওয়াব অনেক বেশী হয়) সদকায়ে জারিয়ার সাওয়াবও পাওয়া যায়। তবে এ ধরনের খাবার মৃতের ওয়ারিসগণের ইজমালী সম্পত্তি থেকে খাওয়াবে না। বালিগ ওয়ারিসগণ নিজেদের মাল থেকে এ খাবারের ব্যবস্থা করবে।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- ইবনে মাজাহ্, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১১৬
- ফাতাওয়া শামী, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৪০
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৬৭
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৪৭
- খাইরুল ফাতাওয়া, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৯৬
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- হিন্দুদের পূজা উপলক্ষ্যে তৈরী খাবার খাওয়া যাবে কি?
- ঘরে তারাবীহের জামা‘আতে মহিলাদের অংশগ্রহন
- শোকার্ত পরিবারবর্গকে খাবার প্রদান করা
- মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন খতম, মীলাদ, চল্লিশা ইত্যাদির আয়োজন করা
- পীরের নামে পশু যবেহ করা ও ওরশ করা
- মুসলমানদের খায়বার আক্রমণ ছিল অমানবিক
- বিধর্মীদের ধর্মানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ
- কসমের কাফফারা আদায়ের নিয়ম