
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
আপনার প্রশ্নটিতে মূলত দু’টি অংশ। যথা- ১. আপনার কৃত ভাড়া চুক্তিটি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সহীহ হয়েছে কি না? ২. ভাড়াকৃত বাসাটি আপনি ভাড়া দিয়ে যে অর্থ পাচ্ছেন সেটি আপনার জন্য বৈধ কি না? ১. আসলে আপনি যে পদ্ধতি ও নীতিটির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটির মাঝে খানিক পরিবর্তন সাধন করলে উক্ত চুক্তিনামাটি জায়েজ হয়ে যাবে। তা হল, আপনারা ভাড়া চুক্তির সময় বলবেন, উক্ত বাসাটির মাসিক ভাড়া হচ্ছে ১,০০০/= (এক হাজার টাকা)। তারপর অগ্রীম বেশ কিছু মাসের ভাড়া প্রদান করা হবে বাড়িওয়ালাকে। যেমন আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত ১০ লাখ টাকা অগ্রীম ভাড়া হিসেবে প্রদান করা হবে। চুক্তিনামায় উল্লেখ থাকবে যে, যখন ভাড়াটিয়া উক্ত বাড়ি থেকে চলে যাবে, তখন যদি অগ্রীম প্রদেয় ভাড়ার টাকা বাকি থাকে, তাহলে তা ফেরত দিয়ে দেবে বাড়িওয়ালা। আর ১০ বছর আগে ভাড়াটিয়া উক্ত স্থান থেকে চলে যেতে পারবে না। যদি চলে যেতে চায়, তাহলে বাড়িওয়ালার সদয় সম্মতি থাকা আবশ্যক। উক্ত চুক্তি সম্পাদনের পর প্রতি মাসে উক্ত ১০ লাখ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে ভাড়া হিসেবে কর্তিত হতে থাকবে। তারপর ১০ বছর পর যখন ভাড়া চুক্তি শেষ করার ইচ্ছে করা হবে, তখন ১০ বছরের প্রতি মাসের ১হাজার টাকা করে বাদ দেয়ার পর যত টাকা বাকি থাকবে তত টাকা বাড়িওয়ালা আপনাকে প্রদান করবে। এমনভাবে লেনদেন ও চুক্তি সম্পাদন করলে আপনাদের মাঝের করা চুক্তিটি শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধতা পাবে। আর যেহেতু উক্ত ১০ লাখ টাকা ভাড়া হিসেবে বাড়িওয়ালাকে প্রদান করা হয়েছে। তাই এর মালিকানা বাড়িওয়ালার। ভাড়াটিয়া তথা আপনার নয়। তাই এ টাকার যাকাত আপনার উপর আবশ্যক হবে না। বাড়িওয়ালার উপর আবশ্যক হবে। (জাদীদ মুআমালাত কি শরয়ী আহকাম, ১/২২২, মালে হারাম আওর উসকে মাসারেফ ওয়া আহকাম, ৮৪- ৮৬, জাদীদ ফিক্বহী মাসায়েল, ১/১৪৭-১৪৮) ২. এক্ষেত্রে আপনার জন্য প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ১৪ হাজার টাকা গ্রহণ জায়েজ হচ্ছে না। কারণ কোন বাসা ভাড়া নেয়ার পর আরেকজনের কাছে ভাড়া দিতে হলে প্রথমে যে টাকায় ভাড়া নেয়া হয়েছে কেবল সেই টাকায় বা এর চেয়ে কম টাকায় আরেকজনকে ভাড়া দেয়া যায়, এর চেয়ে বেশি টাকায় ভাড়া দিলে তা জায়েজ হয় না। এক্ষেত্রে আপনি যদি উক্ত ভাড়া নেয়াটি জায়েজ করতে চান, তাহলে আপনাকে উক্ত ভাড়াকৃত বাসায় নতুন কোন কিছু সংযোজন করতে হবে, যা বাড়ির মালিকের কাছ থেকে উক্ত বাসা ভাড়া নেয়ার সময় উক্ত বাসায় ছিল না। যেমন বাসায় গ্যাসের সুবিধা ছিল না। আপনি গ্যাস সংযোগ করে দিলেন। বাসায় বিদ্যুৎ সুবিধা ছিল না, আপনি বিদ্যুৎ সুবিধা করে দিলেন। কিংবা বাসায় এসি সিষ্টেম ছিল না আপনি এসি সিষ্টেম করে দিলেন। বাসায় কমোড সিষ্টেম ছিল না, আপনি সংযোজন করে দিলেন, বা বাসায় অগ্নি নির্বাপক পদ্ধতি ছিল না, আপনি সংযোজন করে দিলেন। মোটকথা, প্রথম ভাড়া নেয়ার সময় বাসাটি যে অবস্থায় ছিল, তার চেয়ে যদি কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়, চাই তা অতি সামান্যই হোক, তাহলে আপনার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা জায়েজ আছে। যেমন এখানে আপনার প্রতি মাসের ভাড়া হচ্ছে ১হাজার টাকা। আর আপনি যাকে ভাড়া দিচ্ছেন তার কাছ থেকে নিচ্ছেন ১৩ হাজার টাকা। এ ১৩ হাজার টাকা নেয়া আপনার জন্য বৈধ হবে যদি আপনি উক্ত বাসায় কিছুটা পরিবর্তন সাধন করেন। যদি প্রথম ভাড়া নেয়ার সময় বাসার যে অবস্থা ছিল হুবহু সেই অবস্থাই থাকে, তাহলে আপনার জন্য আপনার আদায়কৃত ভাড়ার তুলনায় দ্বিতীয় ভাড়াটিয়া থেকে বেশি নেয়া জায়েজ হবে না। যদি ভাড়াকৃত বাসাটিতে কিছু সুবিধা সংযোজন করে বেশি ভাড়া নেয়া নতুন ভাড়াটিয়া থেকে তাহলে জায়েজ হবে। (ফাতাওয়া বায়্যিনাত, ৪/২৫২-২৫৩)
- والله اعلم باالصواب -
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- রিক্সা ভাড়া দেওয়ার হুকুম
- ইউটিউবে টাকা উপার্যন সম্পর্কে
- চুক্তিতে সিএনজি চালানো
- মা, বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রীদের মাঝে সম্পদ বন্টন পদ্ধতি কি হবে
- লিজ বা ইজারা বৈধ কি না?
- ভাড়া নিয়ে পুনরায় ভাড়াদাতাকে ভাড়া দেওয়া
- নির্দিষ্ট টাকার অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করতে পারলে অতিরিক্ত অংশটা বিক্রেতার এধরনের চুক্তি শরীয়ত সম্মত কিনা
- নৌকা ভাড়া দেওয়া