
প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি প্রথম হজ্ব-ফ্লাইটে করে হজ্বে যান। তিনি একজনের বদলী হজ্বে গেছেন। তিনি মক্কায় গিয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন যে, বদলীকারী প্রেরকের অনুমতিক্রমে তামাত্তু হজ্বও করতে পারে। এখন তিনি উমরা করে হালাল হয়ে যেতে চান। হাদীসে নাকি এমন এজাযত আছে। জানতে চাই, তার জন্য কি এমনটি করা বৈধ হবে?
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
প্রেরণকারীর অনুমতি সাপেক্ষে বদলীকারীর জন্য তামাত্তু হজ্ব করা জায়েয হলেও প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির জন্য তামাত্তু করার সুযোগ নেই। কারণ তিনি হজ্বের ইহরাম করে মক্কায় পৌঁছে গেছেন। আর হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর হজ্ব না করে হালাল হওয়ার সুযোগ নেই। শুধু বদলীকারীর জন্য নয়; নিজের হজ্বে গেলেও একই হুকুম। বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে উমরা করে হজ্বের ইহরাম ত্যাগ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা শুধু ঐ বছরের জন্য ছিল। ঐ হুকুম পরবর্তীতে প্রযোজ্য হবে না। হাদীস শরীফে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এই সুযোগ কি এবছরের জন্য, না পরেও থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তোমাদের জন্য বিশেষ হুকুম।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- সুনানে আবু দাউদ, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৫২
- সুনানে ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা: ২১৪
- সুনানে নাসাঈ, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৭
- আলমুগনী, ইবনে কুদামা, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২৫৩
- মানাসিক, মোল্লা আলী কারী, পৃষ্ঠা: ১৯৭
- ইলাউস সুনান, খন্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ২৬৬
- যুবদাহ, পৃষ্ঠা: ৩৪১
- রদ্দুল মুহতার, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫০২
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- তামাত্তু করার বিধান
- তামাত্তু হজ্বের ক্ষেত্রে ওমরা করার পর মদীনায় গিয়ে ফেরার পর শুধু হজ্বের ইহরাম করা
- তামাত্তু হজ্বের ইহরাম দ্বারা নফল তাওয়াফ করা
- মদিনা থেকে হজ্বের ইহরাম করলে তাওয়াফে কুদূম
- মক্কায় যাবার খরচ আছে কিন্তু মদীনায় যাওয়ার খরচ নেই উক্ত ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরজ
- হজের মধ্যে মাসিক শুরু হয়ে গেলে করণীয়
- কাবা দেখলে বা উমরা করলে কি হজ্ব ফরয হয়
- বদলী হজ্বকারীর জন্য কি ইফরাদ হজ্ব করা?