
প্রশ্ন
আমি একজন ব্যবসায়ী। শুনেছি যে, ব্যবসায় সুদের মিশ্রন হারাম। অনেক সময় পণ্য বাকিতে বিক্রয় করতে হয়। আর তা সাধারণত বাজারদর থেকে কিছু বেশিতে বিক্রি করি। এখানে আমার জানার বিষয় এই যে, বাকি বিক্রিতে মূল্য বৃদ্ধি কি সুদের আওতায় পড়ে? এই বর্ধিত মূল্য গ্রহণ করা কি আমার জন্য বৈধ?
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
নগদ বিক্রির তুলনায় বাকি বিক্রিতে মূল্য কিছু বেশি রাখা দোষের নয়। তবে সাধারণত বাকির ক্ষেত্রে যে হারে অতিরিক্ত নেওয়া হয় তার চেয়ে বেশি নেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ থাকে যে, বাকি বিক্রির ক্ষেত্রে অধিক মূল্য নেওয়া সুদ নয়। অবশ্য মূল্য চুড়ান্ত করে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে বা বিলম্বে মূল্য পরিশোধের কারণে যদি অতিরিক্ত গ্রহণ করা হয় তবে তা সুদ ও হারাম হিসাবে গণ্য হবে।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- জামে তিরমিযী, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৩৩
- হেদায়া, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৭৪
- বুহুছ ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১০
- আলবাহরুর রায়েক, খন্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ১১৪
- আলমাবসূত সারাখসী, খন্ড: ১৩, পৃষ্ঠা: ৭
- হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৪২
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- পণ্যের মূল্য নির্ধারণ না করে বাকি বিক্রি করা
- বিক্রির পর অতিরিক্ত মুল্য দাবি করা
- ঋণদাতা কর্তৃক ঋণগ্রহীতার পণ্য বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ
- যে সম্পদে যাকাত আসে বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর সে মালের যাকাত না দিয়ে তা বিক্রি করে দিলে যাকাত রহিত হবে কি না?
- ফুটপাতে কেনাকাটা
- স্বর্ণ-রোপা এবং টাকা থাকলে কোনটির উপর ভিত্তি করে যাকাত আবশ্যক হয়
- যাকাতে হিসেব থেকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ কি বাদ দিতে হবে
- বাকি লেনদেনে নগদ মূল্যের চেয়ে কিছু বেশি দাম রাখা