
বিবাহিত নারী অন্যত্র বিবাহ বা যিনার দ্বারা সন্তান লাভ করলে উক্ত সন্তানের বংশ পরিচয়
আহলে হ্বক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস•বিবাহ-তালাক•
প্রশ্ন
আশরাফ আলী থানভী রাহ. তার কিতাব “বেহেশতী জেওর” এর মাঝে মাসায়েল বর্ণনা করেছেন যে, যার খুলাসা কথা হলো:
১.স্পষ্ট জিনার দ্বারা পিতৃ সূত্রে বংশীয় সম্পর্ক স্থাপন হয়না। ২.যদি বিবাহ হয় ও অতপর ছয় মাস অতিবাহিত হয় সেক্ষেত্রে কোনো সন্তান হলে সেটি স্বামীর সন্তান বলেই গণ্য হবে যদিও তাদের মাঝে কখনও সহবাস হয়নি/বহুকাল সাক্ষাৎ হয়নি।
জামিয়া রাশিদিয়া,করাচী – বেহেশতী জেওর কে সংস্করণ করে ছাপিয়েছে। আমি আমার পরিস্থিতি সেখানে পাঠিয়েছিলাম। নিম্নরূপ: ১.আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝে বিশুদ্ধ বাসর হলেও সহবাস হয়নি। ২.বিবাহের ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। ৩.আমাদের মাঝে কোনরূপ বৈবাহিক বিচ্ছেদ হয়নি। ৪.সে কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা ছাড়াই অন্য পুরুষের সঙ্গে বিয়ে করতেছে অথচ সে ও ওই পুরুষ জানে যে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার বিবাহ হয়েছিল কিন্তু তালাক হয়নি।
★এখন দ্বিতীয় বিবাহের কারণে কি তারা কাফের হবে ও ওই সংসারে জন্ম নেওয়া সন্তান এর পিতৃত্ব কার হবে? উত্তরে তারা বলেছে যে, ১.যতক্ষণ না স্পষ্টভাবে বিধান অস্বীকার করবে ততক্ষণ কাফের হবে না তবে জিনকারী হবে। ২.দ্বিতীয় বিয়ের কোনো ভিত্তি নেই ফলে ইহা স্পষ্ট হারাম জিনা,তাই এতে কোনো প্রভাব ও পিতৃত্ব নেই। যেহেতু স্ত্রী আপনার তাই গর্ভের ওপর কর্তৃত্বের নিসবত হিসেবে আপনি ই সন্তানের পিতা বলে বিবেচিত হবেন। আমি দেওবন্দি ও করাচী মাশায়েখ এর অনুসরণ করি তবে আমার স্ত্রী সাধারণ বাংলাদেশী মুসলিম সেক্ষেত্রে একটু বলবেন যে, ১.উক্ত রায় এর ওপর আপনাদের মতামত কি? ২.জামেয়া রাশিদিয়া এর ফাতওয়ার ওপর সম্পূরক প্রশ্ন যেটি তাদের ফাতওয়ানামাতে উল্লেখ হয়নি সেটি হলো: নসব কি আমার সাথে সর্বদা যুক্ত থাকবে লিয়ান না করা পর্যন্ত এমনকি আদালতে তাদের জিনা প্রমাণ হয়ে গেলেও কি আমি সন্তানের পিতৃত্ব এর দাবিদার হবো?নাকি আদালতে সাবেত হলে পিতৃত্ব সয়ংক্রিয় বাদ পড়ে যাবে? ৩.আমি সন্তানকে গ্রহণ করতে চাই,এটা কি বৈধ হবে? নাকি লিয়ান করে বংশ বিচ্ছিন্ন করা আবশ্যক হবে?
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর বেহেশতী জেওর-এ বর্ণিত মূল নীতির সাথে জামিয়াতুর রাশিদের ফতোয়া সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। প্রথম স্বামীর সাথে বৈধ নিকাহ বহাল থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিবাহ করা শরীয়তসম্মত নয়; এ ধরনের বিবাহ বাতিল গণ্য হয় এবং সেই সম্পর্ক জিনার অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এ কারণে কাউকে কাফের বলা হয় না, যতক্ষণ না সে শরীয়তের বিধান অস্বীকার করে।
নসব (সন্তানের পিতৃত্ব) নির্ধারণের ক্ষেত্রে শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো—“الولد للفراش” অর্থাৎ সন্তান বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের অধিকারীর দিকেই যুক্ত হবে। সুতরাং স্ত্রী আপনার নিকাহে থাকা অবস্থায়, এবং বিবাহের ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে সেই সন্তান শরীয়ত অনুযায়ী আপনারই সন্তান হিসেবে গণ্য হবে—যদিও বাস্তবে সহবাস না হয়ে থাকে বা অন্য কারো সাথে জিনা প্রমাণিত হয়।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতে জিনা প্রমাণিত হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্তানের নসব বাতিল হয়ে যায় না। নসব বিচ্ছিন্ন করার একমাত্র শরয়ী পদ্ধতি হলো “লিয়ান” (لعان)। তাই আপনি যদি লিয়ান না করেন, তাহলে সন্তান আপনার দিকেই যুক্ত থাকবে এবং আপনি শরীয়ত অনুযায়ী পিতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আপনি যদি সন্তানকে গ্রহণ করতে চান, তাহলে তা সম্পূর্ণ বৈধ। বরং লিয়ান না করলে সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবেই গণ্য করা হবে। লিয়ান করা বাধ্যতামূলক নয়; এটি তখনই করা হয়, যখন স্বামী পিতৃত্ব অস্বীকার করতে চান। আপনি গ্রহণ করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। উল্লেখ্য, তবে বাস্তব জীবনে এ ধরনের বিষয় অনেক জটিলও হয়ে থাকে—আইনি, সামাজিক ও প্রমাণসংক্রান্ত দিক জড়িত থাকে। যদি এই ধরণের বিষয় থাকে, তাহলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য কোনো দারুল ইফতায় সরাসরি যোগাযোগ করে বিস্তারিত পরিস্থিতি জানিয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা নেওয়া উচিত। যদি এমন বিষয় না থাকে, তাহলে আশা করছি আমাদের উত্তর যথেষ্ট।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- সূরা: الزمر, আয়াত: ৫৩
- سنن الترمذي, হাদীস নম্বর: ১,১৫৭
- الھدایة, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭০
আনুষঙ্গিক তথ্য
: শাহাদাত হুসাইন
সত্যয়ন: মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- কাদিয়ানীদের পরিচয় ও তাদের সংঙ্গে মুসলমানের সন্তানের বিবাহ
- বিবাহিতা মেয়ের উপর কি বাবা-মায়ের খরচ বহনের দায়ীত্ব
- পীর-ওলীদের, সন্তান দেয়া প্রসঙ্গ
- মৃত ব্যক্তির পেনশন ও সমুদয় সম্পদ স্ত্রী সন্তান ও ভাইদের মাঝে বন্টন করা প্রসঙ্গে
- ভরণ-পোষণ দেওয়ার ভিত্তিতে কোনো এক সন্তানকে অধিকাংশ সম্পদ দেওয়া যাবে কিনা
- সৎ খালাকে বিবাহ করা
- অবৈধ সন্তানের মিরাসে অংশীদারি
- বিবাহিত মেয়েকে বিবাহে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বার বিয়ে দেয়ার হুকুম