
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
রোযা অবস্থায় পেটে বা মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে অর্থাৎ, নাক, কান, গলা বা পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ইচ্ছাপূর্বক কোন কিছু প্রবেশ করলে বা দাখিল হলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায়। এটাই শরীয়তের বিধান। ইনজেকশন দ্বারা যেহেতু স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পেটে বা দেমাগ কিছু পৌঁছে না। সুতরাং, তার দ্বারা রোযা ভঙ্গ হবে না। আর শুধু শরীরে কোন কিছু প্রবেশ করলে বা করালেই রোযা ভঙ্গ হয় না। যেমন উযু বা গোসল করলে অথবা শরীরে তৈল মালিশ করলে, পানি ও তৈল শরীরে কিছু কিছু প্রবেশ করে। যার ফলে গরমের সময় গোসল করলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। অনেক সময় ক্ষুধাও নিবারণ হয়ে যায়। এমন কি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও অধিক গরমের সময় রোযা অবস্থায় শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য ভিজা কাপড় মাথায় দিয়ে রেখেছেন। মাথার শিরার সাথে যেহেতু শরীরের সমস্ত শিরার সম্পর্ক রয়েছে, তাই মাথা ঠাণ্ডা হওয়ার কারণে সমস্ত শরীরও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু এগুলো যেহেতু মস্তিষ্কে বা পেটে স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয় না। এমনিভাবে ইনজেকশনের ঔষধ দ্বারা যদিও অনেক সময় ক্ষুধা নিবারণ হয় এবং শরীর ঠাণ্ডা হয়, কিন্তু ইনজেকশনের ঔষধ স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে না। অতএব, ইনজেকশনের দ্বারা রোযা ভঙ্গ হবে না এবং রোযার কোন প্রকার ক্ষতিও হবে না।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- বাদায়েউস সানায়ে, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৯৩
- ফাতাওয়া দারুল উলূম, খন্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪০৮
- আহসানুল ফাতাওয়া, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪২২
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- রোযা অবস্থায় ইনজেকশন
- রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়া বা নিম, পেষ্ট দিয়ে দাঁত মাজা
- রোজা অবস্থায় নেবুলাইজার ব্যবহার করা
- রোজা অবস্থায় ভুলবশত পানি পানের দ্বারা রোজা ভেঙ্গে গেছে ভেবে পানাহার করলে করণীয়
- রোযা অবস্থায় ইনহিলার ব্যবহার
- রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার
- রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বমি করা
- ইচ্ছেকৃত রোযা ভঙ্গ করলে কাযা আবশ্যক না কাফফারা