
প্রশ্ন
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
মাহে রামাযানের সুবেহ সাদেকের পর থেকে সূর্য ডোবা পর্যন্ত এ সময়ে রোযা অবস্থায় যদি কোন ব্যক্তি রোযার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম করে এবং তার স্ত্রীরও রোযার কথা স্মরণ থাকে তাহলে উভয়ের রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং উভয়ের উপর কাযা ও কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হবে। আর যদি স্ত্রীকে বাধ্য করা হয় এবং তার সাথে শক্তি প্রয়োগ করে জবরদস্তি এ কাজ করা হয়, তাহলে স্ত্রীর উপর শুধু রোযা কাযা আদায় করা ওয়াজিব হবে, কাফফারা ওয়াজিব হবে না। কাফফারা আদায় করার নিয়ম এই যে, একটি দাস বা গোলাম মুক্ত করতে হবে। তবে বর্তমান এর কোন সুরত নেই। সুতরাং এখন একাধারে দুই মাস রোযা রাখবে, মাঝে একটিও ছাড়তে পারবে না। শারীরিক শক্তি না থাকার কারণে তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ষাট জন মিসকীনকে দু’বেলা খানা খাওয়াতে হবে। অথবা একজনকে ষাট দিন দু’বেলা খানা খাওয়াবে অথবা এ হিসাব মত মিসকীনকে খানা দিবে বা খানার টাকা দিবে। এক মিসকীনের এক দিনের খানার টাকা পৌনে দু’সের গম বা আটার মূল্য পরিমা যদি চাউল দিতে চান, তাহলে ঐ পরিমাণ চাউল দিতে হবে, যা (নিছফে ছা) অর্থাৎ, পৌণে দু’সের আটার দামের সমান হয়। তাহলে কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। হ্যাঁ, একাধারে ষাট দিনও দিতে পারেন এবং মাঝে মধ্যে ফাঁকও দিতে পারেন। তবে ষাটদিন পূর্ণ করতে হবে। আর একজন মিসকীনকে দু’দিনের চাউল একদিন দেয়া যাবে না। যদি দেন, তাহলে একদিনের কাফফারাই আদায় হবে। আর যদি কিছুদিন যাওয়ার পর লোকটি মারা যায়, তাহলে কাফফারার অবশিষ্ট টাকা উপযু্ক্ত অন্য লোককে দিয়ে দিবেন।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- দারুল উলূম , খন্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩০২
- দারুল উলূম, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫০
- দারুল উলূম, খন্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪২৯
- হিদায়া, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১৯
- মুসলিম শরীফ, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৫৪
- আলমগীরী, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৯১
- ফতহুল কাদীর, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫৪
- আলমগীরী, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৩
- হিদায়া, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১৬
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- রোযা রেখে জোরপূর্বক স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে স্বামী স্ত্রীর রোযার বিধান কী
- ইচ্ছেকৃত রোযা ভঙ্গ করলে কাযা আবশ্যক না কাফফারা
- রোযা অবস্থায় জিনা করা ও রোযার কাফফারা
- একাধিক রোযার কাফফারা কয়টি আদায় করতে হয়
- রোযা অবস্থায় বীর্যপাত করা ব্যতীত সহবাসের হুকুম
- “আল্লাহর কসম আমি আর তোমার সাথে থাকবো না।” এরকম কথা বলার পর স্ত্রীর সাথে হুকুম কি
- রোযা রেখে কাফফারা আদায়ে সক্ষম হওয়া সত্বেও ফিদিয়া দেওয়া
- রোযা অবস্থায় বির্যপাত হলে করণীয়