
প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমাদের সুযোগ হয়েছিল দশ দিনের জন্য তাবলীগের সফরে বের হওয়ার। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের আমীর সাহেব ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি, তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই। এবং আমাদের অনেক সাথিই সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
সফরের যাত্রাপথে যখন গন্তব্যে পৌঁছার ব্যস্ততা ও তাড়াহুড়া থাকে তখন সুন্নাত ছেড়ে দেয়াই উত্তম। এ সময় সুন্নাতের ইহতেমাম নিজের বা সফর সঙ্গীদের পেরেশানীর কারণ হয়। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর মসজিদে অবস্থানের সময় বা কাছাকাছি স্থানে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাতায়াতের সময় কোনো তাড়াহুড়া বা কষ্ট-ক্লেশ না থাকলে যথাসম্ভব নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায় করে নেয়া উত্তম। উল্লেখ্য, ফজরের পূর্বের সুন্নাতের গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নাতের চেয়ে বেশি। তাই সর্বাবস্থায় তা আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- শরহুল মুনয়া, পৃষ্ঠা: ৫৪৫
- বাদায়েউস সানায়ে, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৬০
- মুখতারাতুন নাওয়াযিল, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭৬
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩৯
- জামে তিরমিযী, হাদীস নম্বর: ৫৫০
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- ফজরের জামা‘আত শুরু হলে সুন্নাত পড়ার হুকুম
- সফরের আহকাম শুরু হওয়ার সময়
- সফর অবস্থায় সুন্নত পড়ার হুকুম
- মাহরাম কাকে বলে মহিলাদের জন্য মাহরাম ছাড়া সফরের হুকুম কি
- সফর অবস্থায় কোন নামায কত রাকাত পড়বে
- সুন্নতে মুআক্কাদা কাকে বলে সুন্নতে মুআক্কাদা ছেড়ে দিলে কি কেউ গোনহগার হবে
- সুন্নী ও বিদ‘আতীর পরিচয় এবং উলামায়ে হক্কানীদের ওহাবী বলার রহস্য
- ফজরের সুন্নাত কাযা হয়ে গেলে