
প্রশ্ন
আজ থেকে বহু বছর আগের কথা। আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি কবরস্তানের জন্য এক বিঘা জমি ওয়াকফ করেন। বর্তমানে তিনি বেঁচে নেই। কিন্তু এলাকার কিছু লোক কবরস্তানের জন্য ওয়াকফকৃত এক বিঘা জমি থেকে একটি অংশ কবরস্তানের জন্য রেখে অবশিষ্ট জায়গায় একটি মসজিদ ও ঈদগাহ নির্মাণ করে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও ঈদের নামায পড়ে আসছে। আমার জানার বিষয় এই যে, ওয়াকফকারী তো এই এক বিঘা জমি কবরস্তানের জন্য ওয়াকফ করেছেন। এই জায়গায় মসজিদ ও ঈদগাহ তৈরি করা জায়েয হয়েছে কি? এবং যারা এতদিন সেখানে নামায পড়ে আসছেন তাদের নামাযের কী হুকুম? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ওয়াকফকারী যেহেতু উক্ত এক বিঘা জমি কবরস্তানের জন্যই ওয়াকফ করেছেন তাই ঐ জমি কবরস্তান হিসাবে রাখা জরুরি। ঐ জমিতে মসজিদ বা ঈদগাহ বানানো জায়েয হয়নি। তাই বর্তমান যে জায়গায় মসজিদ ও ঈদগাহ নির্মাণ করা হয়েছে তা খালি করে দিতে হবে। তবে এতদিন যারা ঐ জমিতে নামায পড়ে এসেছেন তাদের নামায আদায় হয়ে গেছে। ঐ নামাযগুলো পুনরায় পড়তে হবে না।
- والله اعلم باالصواب -
সুত্র
- আলবাহরুর রায়েক, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২৪৫
- ফাতহুল কাদীর, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৪৪০
- তানকীহুল হামিদিয়া, খন্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২৬
- আলআশবাহ ওয়াননাযাইর, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২২৮
- আদ্দুররুল মুখতার, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৩৩
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- মসজিদের ওয়াকফকৃত স্থানে ঈদগাহ নির্মাণ করা
- গোরস্থানের জায়গায় মসজিদ নির্মাণ
- কবরের উপর মসজিদ নির্মাণের হুকুম কি
- মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত স্থানে মাদ্রাসা করা
- মসজিদ নির্মাণের জন্য ওয়াকফকৃত জমি হওয়া আবশ্যক এক মসজিদের সম্পদ আরেক মসজিদে ব্যবহারের হুকুম কি
- মসজিদ কবরস্থান সংক্রান্ত মাসআলা
- মসজিদের স্থানে ঈদগাহ নির্মাণ করার হুকুম কি
- মক্তবের জন্য ওয়াকফকৃত স্থানে মসজিদ নির্মাণ