
তাবলীগ জামাতের ছয় উসূলের মাঝে পূর্ণ ইসলাম নেই তা এ পদ্ধতিতে দাওয়াতের কাজ করা যাবে না
আহলে হ্বক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস•তাবলীগ•
প্রশ্ন
তাবলীগ জামাত বিরোধী অনেক ভাই প্রায়ই একটি অভিযোগ করে থাকেন যে, তাবলীগ জামাআতের ছয় উসুলে পূর্ণ ইসলাম নেই। তাই এ মেহনত করা জায়েজ নয়।
উত্তর
- حامداومصلياومسلما، بسم الله الرحمن الرحيم -
এ অভিযোগটি একটি অজ্ঞতার পরিচয়বাহী ও হিংসাত্মক অভিযোগ। যার কোন ভিত্তি নেই। তাবলীগের ছয় উসুলের মাঝে পূর্ণ ইসলাম আছে একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন নাকি? তারাতো সর্বদা একথার দাওয়াত দেন যে, ছয় উসূলের উপর চললে পূর্ণ দ্বীনের উপর চলা সহজ হয়। একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন না যে ছয় উসূলই পূর্ণ দ্বীন। সাথে সাথে তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত শুধু একথার উপর দেয়া হয় না যে, শুধুমাত্র ছয় উসূল মানতে হবে, বরং দাওয়াত দেয়া হয় পূর্ণ শরীয়তের পাবন্দ হতে হবে। তাই নয় কি? সুতরাং এ দাবি করা যে, যেহেতু ছয় উসূলে পূর্ণ দ্বীন নেই, তাই তাবলীগী ভাইয়েরা অপূর্ণাঙ্গ দ্বীনের দিকে আহবান করে। কারণ ছয় উসুলের দাওয়াতের মাধ্যমে পূর্ণ দ্বীনের দিকেই আহবান করা হয়। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ছয়টি বিষয়ের অনুসরণ করলে বান্দা সফলকাম হয়ে যাবে মর্মে সূরায়ে মু’মিনূন এ ঘোষণা করেন- قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ۞ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ ۞ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ۞ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ ۞ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ۞ الى اخر- وَالَّذِينَ هُمْ لأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ۞ وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ۞ أُوْلَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ ۞ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ۞ ১-নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ। ২-যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। ৩-যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। ৪-যারা যাকাত সম্পাদনকারী। ৫-যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। ৮-এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। ৯-এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষাবেক্ষণ করে। ১০ এরাই হল সেই ওয়ারিশ। ১১-যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তারাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। (সূরা মুমিনুন-১-১১) এ আয়াতে সমূহে লক্ষ করুন-ছয়টি কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা সফলকাম হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেই সাথে জান্নাতী হওয়ার ঘোষণেও দিয়েছেন। অথচ এ ছয় কাজে রোযার কথা নেই। নেই হজ্বের কথাও। তাহলে কি আল্লাহর বলা সফলকাম হওয়ার জন্য রোযা রাখার প্রয়োজন নেই? নেই হজ্ব ফরজ হলে হজ্ব আদায়েরও। এ দু’টি গুরত্বপূর্ণ ফরজ ছাড়াই কি ব্যক্তি জান্নাতী হয়ে যেতে পারে? কিভাবে? এর জবাব যেমন-এ ছয়টির মাঝেই পূর্ণ দ্বীন শামিল। তেমনি তাবলীগের ছয় উসূলের দাওয়াতের দ্বারাও পূর্ণ দ্বীনের উপর আমলের দিকেই আহবান করা হয়। যা কিছুতেই দ্বীনকে সীমাবদ্ধ করা নয়, যেমন আল্লাহ তায়ালা সীমাবদ্ধ করেন নি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন।
- والله اعلم باالصواب -
আনুষঙ্গিক ফতোয়া
- তাবলীগ জামাত ইসলাম ধর্মে একটি নতুন বিদআত
- তাবলীগের জামাতে প্রচলিত গাস্তে যাওয়ার পদ্ধতি এবং ৩ দিন,৪০দিন আর ১২০ দিনের হাদিসের দলিল কি
- কোন কোন ফিরকা বাতিল বলে গণ্য হবে?
- জিহাদ করা দ্বীন শিখা তাবলীগ করা তাসাওফের মেহনত করা সবই দ্বীনের কাজ!
- বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলমান ভাইদের ইসলামের দিকে ডাকার জন্যে চল্লিশ দিন(চিল্লা) কিংবা চার মাসের(তিন চিল্লা) যে চল আমরা দেখি এ সম্পর্কে কি বিধান রয়েছে
- তাবলীগ জামাতের চিল্লার কোন শরয়ী ভিত্তি আছে কি
- মা, বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রীদের মাঝে সম্পদ বন্টন পদ্ধতি কি হবে
- ঘরে বিবি কন্যাদের রেখে তাবলীগী সফরে দীর্ঘদিন থাকার কোন শরয়ী ভিত্তি আছে কি